হাইকিংয়ে রেকর্ড গড়লেন জবির মাসফিক

হাইকিংয়ে রেকর্ড গড়লেন জবির মাসফিক

তারুণ্য লিড স্টোরি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক » 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসফিকুল হাসান টনি সলো ক্রস-কান্ট্রি ওয়েফারিং মিশন হাইকিংয়ে সবচেয়ে কম সময়ে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ন্যাশনাল রেকর্ড গড়েছেন।

‘সংশোধনী আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির বাস্তবায়ন ও সেক্সুয়াল এডুকেশন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০ দিনে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত পরিভ্রমণ করলেন।

গত ৫ নভেম্বর সকাল ৮টায় প্রথম সলো ক্রস কান্ট্রি ওয়েফারিং মিশনে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মাসফিকুল। এর ২০ দিনে মোট ১৬টি জেলা পরিভ্রমণ করে গত ২৪ নভেম্বর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পদযাত্রা শেষ করেন।

২০১৫ সালে হাইকার সাহাদাত হোসেন সর্বনিম্ন ২১ দিনে ক্রসকান্ট্রি হাইকিংয়ের রেকর্ড করার পাঁচ বছর পর ১২তম ব্যক্তি হিসেবে নতুন রেকর্ড করেন মাসফিকুল হাসান টনি।

জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া ক্রসকান্টি হাইকিংয়ে এ পর্যন্ত ১১ জন হাইকার পুরো দেশ পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণ করেছেন। মাসফিকুল ১২তম ব্যক্তি হিসেবে এই হাইকিংয়ে অংশ নেন।

হাইকিংয়ের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মাসফিকুল জানান, অজানাকে জানার যে কৌতুহল, পৃথিবীকে ঘুরে দেখার যে প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি তার সবটুকু দিয়েই আমি চেষ্টা করেছি। পাহাড়, পর্বত এবং অ্যাডভেঞ্চার জীবন আমার শৈশব থেকেই ভালো লাগে। ঘোরাঘুরির অভ্যাসটাও শৈশব থেকেই। স্কুল-কলেজে যাতায়াতসহ প্রতিদিন সাধারণ ভাবেই হাঁটাহাঁটি করা হয়। মাউন্টেনিয়ারিংয়ের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। সেটা নিয়ে বিভিন্ন স্টাডি করতে গিয়েই হাইকিং সম্পর্কে জানা হয় আমার। তখন থেকেই আমার হাইকিংয়ের স্বপ্ন। লক্ষ্য ঠিক করে শুরু করলাম নিজ জেলা নাটোর থেকে।

হাইকিংয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মাসফিকুল বলেন, প্রত্যেকটা ভ্রমণে প্রয়োজন হয় সঠিক পথ ও নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা। আমি কোথায় থাকব ও কোথায় খাব ইত্যাদি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এগুলোর কিছুই করার সুযোগ পাইনি। বলতে গেলে আমি সরাসরি তেঁতুলিয়ায় গিয়ে পদযাত্রায় যুক্ত হয়েছিলাম। আমার এই পদযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। পদযাত্রাকালে অনেকে আমাকে থাকার জন্য এবং খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমি এই পদযাত্রাটি অনেক উপভোগ করেছি এবং অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার ইচ্ছা আছে আরও দূর্গম পথ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করবো। একজন বিশ্বসেরা হাইকার হওয়া আমার উদ্দেশ্য।

হাইকার মাসফিকুল হাসান টনি নাটোর জেলার বনপাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে জবির নাট্যকলা বিভাগে ২০১৬-১৭ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছেন।