সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ

সাইকেল চালিয়ে ৩ মহাদেশে ভ্রমণ

টপ স্টোরি তারুণ্য ফিচার বেড়ানো

বেড়ানো ডেস্ক »

ভালোবাসার মানুষ সঙ্গে থাকলে সব বাধা-বিপত্তিকে জয় করা সম্ভব। তারই প্রকৃত উদারহণ গড়লেন এক দম্পতি। টানা ৩ বছর বাইসাইকেল চালিয়ে পাড়ি দিয়েছেন ১৫ হাজার কিলোমিটার (৯ হাজার ৩২০ মাইল)। ২০১৮ সালের শুরুতে তারা বিশ্বভ্রমণে সাইকেলে চেপে বেরিয়ে পড়েন। এরপর ৩ বছর পর ২০২০ সালের শেষে তারা দীর্ঘ ভ্রমণের ইতি টানেন।

সাইকেলে চড়ে ৭টি দেশ ও ৩টি মহাদেশ ঘুরে তারা রেকর্ড গড়েছেন। এ দম্পতি এখন অন্যদের কাছেও আইডলে পরিণত হয়েছেন। বলছি ত্রিস্তান বোগার্ড এবং বেলেন ক্যাস্তেলোর কথা। তারা ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ইতালি, স্পেন, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান এবং নরওয়েতে ঘুরেছেন সাইকেলে করে।

মধ্য এশিয়ার পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম রাস্তা ধরে সাইকেল চালিয়েছেন তারা। যা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও তারা স্বপ্নের পথ পাড়ি দিয়েছেন।

এ দম্পতি হিমবাহ উপত্যকা এমনকি আগ্নেগিরিও পাড়ি দিয়েছেন চলার পথে। পেশায় তারা দু’জনেই ফটোগ্রাফার। এজন্যই তো বিশ্বের আনাচে-কানাচের ছবি তোলার নেশায় এ দম্পতি ঘুরে বেড়িয়েছে ৩ বছর ধরে।

অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি মনোরোম ছবিও ফ্রেমবন্দি করেছেন এ যুগল। দীর্ঘ ৩ বছর ভ্রমণের পর তারা একটি বইও লিখেছেন, কীভাবে সাইকেলে চড়ে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা যায় সে বিষয়ে। তাদের বইয়ের নাম ‘বাইক লাইফ’।

এমন রোমাঞ্চকর ভ্রমণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীণ হয়েছি আমরা। তবে স্মরণীয় বিষয় হলো, নরওয়েতে তারা অনেক মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। এক পরিবার তো তাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভোজনও করিয়েছেন।

তাদের অর্জন সম্পর্কে ত্রিস্তান বলেন, আমরা যখন পৃথিবীর ছাদ খ্যাত নরওয়ের ডালসনিবা পর্বতে সাইকেলসহ আরোহণ করেছিলাম; সেটি ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি।

কারণ সাইকেল যদি একটু পিছলে পড়ত; তাহলে সেখানেই অঘটন ঘটে যেত। তবে আমরা পর্বত জয় করেছি। ৪ হাজার ৮৪৩ ফুট উচ্চতার এ পর্বতে আমাদের ওঠার সৌভাগ্য হয়েছে।

ত্রিস্তানের স্ত্রী বেলেন বলেন, আমরা যখন ইতালিতে গিয়েছিলাম; তখন আমাদের দু’জনের সাইকেলেই প্রায় ২৫ কেজির লাগেজ ছিল। টানা ৫ দিন আমরা এভাবেই ডলোমাইটস পর্বতের রাস্তা পাড়ি দিয়েছি।

এর উচ্চতা ৪ হাজার ৫৯৩ ফুট। ওই অভিজ্ঞতা খুবই বিপজ্জনক ছিল। এ ছাড়াও তাজিকিস্তানের পামির হাইওয়ে ধরে আমরা উঠেছিলাম ১৫ হাজার ২৭২ ফুট উচ্চতায়।

পুরো ভ্রমণকালে এ দম্পতি অসম্ভব সুন্দর কিছু ছবি ফ্রেমবন্দি করেছেন। এসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। এরই মধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তারা।

তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের ইচ্ছা, এসব অর্জন তারা ছড়িয়ে দেবেন ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে।