মালালা

মালালার ‘আসল রূপ’ সামনে আনতে প্রচার শুরু পাকিস্তানে

টপ স্টোরি সারাবিশ্ব স্লাইডার

সারাবিম্ব ডেস্ক »

তালেবানি ফতোয়া অমান্য করে স্কুলে যাওয়ায় গুলি করা হয়েছিল পাকিস্তানি তরুণী মালালা ইউসুফজাইকে। এতে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যান, তবে থেমে থাকেননি। এরপর থেকে আরও বেশি সরব হয়েছেন নারীর শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে। সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে জিতেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও। তবে তার কিছু কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, তিনি পশ্চিমাদের নির্দেশে ইসলাম ধর্মবিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। সেই ধরনের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি মালালার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে।

দেশটির বেসরকারি স্কুল সংগঠনের প্রেসিডেন্ট কাশিফ মির্জা গত সোমবার লাহোরের গুলবার্গে একটি তথ্যচিত্রের উদ্বোধন করেছেন। মালালার আত্মজীবনীমূলক বই ‘আই অ্যাম মালালা’কে চ্যালেঞ্জ করে বানানো ওই তথ্যচিত্রের নাম ‘আই অ্যাম নট মালালা।’

এ প্রসঙ্গে কাশিফ মির্জা বলেন, পাকিস্তানের দুই লাখ বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে মালালার আসল রূপ তুলে ধরতে চাই। তিনি বিয়ের মতো পবিত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিয়ের বদলে নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকা বা ‘পার্টনারশিপ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন, যা ইসলাম ধর্মে পুরোপুরি অবৈধ।

ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল বিষয়ক বিখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের গত জুন সংখ্যার প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন মালালা ইউসুফজাই। সদ্য ২৪-এ পা দেয়া এ তরুণীর একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয় সেখানে। ওই সাক্ষাৎকারে একটি প্রশ্নের জবাবে মালালা বলেছিলেন, ‘আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারি না, সবাই বিয়ে করে কেন? জীবনসঙ্গী বেছে নিতে কাগজে সই করার কী দরকার? এটা তো একটা পার্টনারশিপও হতে পারে।’

মালালার ওই মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোমবার সেই বিষয়টিরই উল্লেখ করেছেন কাশিফ মির্জা। মালালার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি ধর্মীয় আদর্শ এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহম্মদ আলি জিন্নাহ-সহ দেশটির সেনাবাহিনীরও সমালোচনা করেছেন। নিজের বইয়ে পশ্চিমা জীবনধারা ও আদর্শের প্রচার করেছেন মালালা।

কাশিফ মির্জা বলেন, ভারতে আশ্রয় নেয়া বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে মালালাকে এক ছবিতে দেখা গেছে। মালালা আসলে পশ্চিমাদের তৈরি এবং ভারতের ঘনিষ্ঠ। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সম্প্রদায়ের সামনে আমরা মালালার মুখোশ খুলে দিতে চাই, যাতে তিনি তথাকথিত নারী অধিকার আদায় সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে তাদের প্রভাবিত করতে না পারেন।

মালালা-বিরোধী তথ্যচিত্র প্রকাশের পাশাপাশি পাঞ্জাবে সম্প্রতি মালালার ছবি দেয়া বেশ কিছু পাঠ্যবই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, পাঞ্জাবের স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত বোর্ডের (পিসিবিটি) চূড়ান্ত ছাড়পত্র ছাড়াই বইটি ছাপা হয়েছিল।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত সপ্তম শ্রেণির ওই পাঠ্যবইয়ে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কবি ইকবাল, শিক্ষাবিদ স্যার সৈয়দ আহসান, দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, প্রখ্যাত দানবীর আব্দুল সাত্তার ইধি ও নিশান-ই-হায়দার পুরস্কারপ্রাপ্ত মাজ আজিজ ভাট্টির পাশে মালালার ছবিও ছাপা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে বইটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে পিসিটিবি।

অবশ্য মালালার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি প্রশাসনের এই তৎপরতার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তালেবান। ইতোমধ্যে দেশটির ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি। এমনকি রাজধানী কাবুলের ওপরও নিঃশ্বাস ফেলছে তারা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়, তাতে বলা হয়েছে, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ছয় মাসের মধ্যেই কাবুলের বর্তমান সরকারের পতন হতে পারে। এটি সত্যি হলে ২০ বছর পর তালেবানই যে আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসছে, তা নিশ্চিত। আর তার প্রভাব পড়তে পারে প্রতিবেশী পাকিস্তানেও। এ কারণে তালেবানকে সন্তুষ্ট রাখতে পাকিস্তানে মালালা-বিরোধী প্রচারণা শুরু হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, ডন