মাহবুবউল আলম হানিফ

বিএনপি সকালে এক কথা বলে, বিকালে আরেক কথা বলে : হানিফ

টপ স্টোরি রাজনীতি লিড স্টোরি

নিজস্ব প্রতিবেদক »

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে বিএনপি সকালে এক কথা বলে বিকালে আরেক কথা বলে। যখন নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় আসলো, শেষ সময় বিএনপি দাবি করলেন,আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন আইন চাই। তখন আমাদের আইনমন্ত্রী বলেছিলেন এতো স্বল্প সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করা কঠিন।

তিনি বলেন, বিএনপি যদি দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। যে কোনো বিষয়ে বিএনপি অপরাজনীতির ইস্যু খোঁজে। এজন্য আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপির মিথ্যাচার অপপ্রচার কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না, যে কোনো মূল্যে তাদের অপরাজনীতি নিশ্চিহ্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তাদের দলের নেতারা প্রতিদিন টেলিভিশনে টকশোতে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারপরও তাদের শান্তি হচ্ছে না।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, কথায় কথায় বলে আমরা তাদের কথা বলার সুযোগ দিচ্ছি না, দেশে কোনও গণতন্ত্র নেই। আর কোন গণতন্ত্র চায় তারা? আর কতো কথা বলতে দিলে তাদের মনে হবে যে গণতন্ত্র রয়েছে। বিএনপি যদি মনে করে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করে, পেট্রল-বোমা মারলেই গণতন্ত্র আছে তাহলে সেটি বিএনপি আর দেখবে না। এমন গণতন্ত্র তাদেরকে আর দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত আছে এবং বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। আমরা এখন আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছি। মাত্র ৬’শ ডলার ছিলো আমাদের মাথাপিছু আয়, এখন আমাদের মাথাপিছু আয় ২৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এদেশ এক সময় ছিল চরম দরিদ্রের দেশ। বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আখ্যায়িত ছিল, ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেই বাংলাদেশ আজকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় শুধু বৃদ্ধি পায়নি, রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা খাদ্য সংকটের সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি, খাদ্যে আজকে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন আজকে দৃশ্যমান। কর্ণফুলী টানেল হচ্ছে, মাতারবাড়ী-পায়রা দুটি সমুদ্র বন্দর হয়েছে। মেট্রো-রেল হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এতো উন্নয়ন দেশের মানুষের ভালো লাগলেও বিএনপির ভালো লাগে না।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম একাধিক বার বলেছিলেন, সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন একদিনে পাশ করতে পারে। বিএনপির দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইনমন্ত্রী বিলটির খসড়া সংসদে উত্থাপন করলেন, সেখানে বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ সব দলের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্তভাবে সংসদে উত্থাপন করলেন। সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাশ হলো। বিলটি পাশ হওয়ার পরে তাদের বক্তব্য পাল্টে গেলো। এখন বলে সরকার তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন গঠন ও আইন তৈরি করেছে। বিএনপি সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলে। মিথ্যাচারের রাজনীতি করা ছাড়া বিএনপির আর কিছু নেই।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম পাটোয়ারী দুলাল, চাঁদপুর ৪ আসনের এমপি শফিকুর রহমান, চাঁদপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল প্রমুখ।