ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

বাজেটের চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয় ।। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

টপ স্টোরি মতামত

মতামত

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নের যে সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, তার ওপর করোনাভাইরাস মহামারি এক বড় আঘাত। আমাদের অর্থনীতিকে এমনিতেই নানা বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে অগ্রসর হতে হয়। মহামারি এসে সেই প্রতিবন্ধকতাগুলোকে তীব্রতর করেছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা দরকার। আবার আমাদের অনেক সম্ভাবনাও রয়েছে। সেগুলোও কাজে লাগাতে হবে। আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শিগগিরই প্রস্তাব করা হবে। এটা নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। এবারের বাজেটে বিশেষ কতগুলো ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে। আমার চাওয়া হচ্ছে, এবার বাজেট শুধু দিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়োপযোগী হতে হবে। সে রকম পরিকল্পনা বাজেটে রাখতে হবে। কারণ আমাদের দেশে যেকোনো পরিকল্পনা, প্রকল্প, কৌশল ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চিত্র খুবই হতাশাব্যঞ্জক। অবশ্য এসবের পেছনে কারণ আছে। কিন্তু বরাবরই আমরা কারণগুলো এড়িয়ে গেছি। এবার সেসব দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা—দুটি কাজই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। এটাই সবার প্রতাশা। এবার গতানুগতিক বাজেট তৈরি করলে হবে না। আমরা দেখেছি, বিদায়ি অর্থবছরের বাজেটও গতানুগতিক ছিল এবং তাতে অঙ্কের হিসাবে অনেক কিছু উল্লেখ থাকলেও নীতি ও বাস্তবায়ন কৌশলে পিছিয়ে ছিল। বার্ষিক আর্থিক বিবরণ হিসাবে বাজেটে গাণিতিক হিসাব থাকবেই; কিন্তু কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, এর কী প্রভাব পড়বে সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বাজেটে রাজস্ব আয় ও রাজস্ব ব্যয় বরাবরই চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু এবার বাস্তবতা ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জও তীব্র। আয়ের একটা চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাওয়ায় এ খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ার আশঙ্কা। কারণ আমদানি কমে গেছে, আমদানি শুল্ক কমে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের করও কম আদায় হচ্ছে। তাই এবার ব্যবসা-বাণিজ্যের কর বাড়ানো যাবে না। শুধু তা-ই নয়, এবার ব্যক্তিগত কর, করপোরেট কর, ব্যবসা-বাণিজ্যের কর বাড়ানো যাবে না। এমনকি ভ্যাটের হারও বাড়ানো যাবে না। বরং যেটা করতে হবে তা হলো করের জাল বা বিস্তারটা বাড়ানো। ছোট শহর বা গ্রাম এলাকায় অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা যথেষ্ট আয় উপার্জন করলেও করের আওতায় আসেন না। তাঁদের করের আওতায় এনে আয়কর সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ভ্যাটের অটোমেটিক রেজিস্ট্রার বা ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রার নেই—এই অজুহাতে ভ্যাট আদায় কম হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ভ্যাটের আদায় এবং এর আওতা বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দিতে হবে। সে জন্য এনবিআরকে কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে।

বাজেটে আয়ের পরিমাণ যা-ই নির্ধারণ হোক তা যেন অর্জনযোগ্য হয়, অন্তত কাছাকাছি হয়। বিরাট একটা অঙ্ক বাড়িয়ে এক বছরেই বাজেটের আকার অনেক বেশি বাড়ানো যুক্তিসংগত নয়। তাই একটা বাস্তবভিত্তিক আয় ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু ট্যাক্স আয় নয়, নন-ট্যাক্স রেভিনিউ বা রেজিস্ট্রি ফি, যেমন লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন ফি—এসব ফি না বাড়িয়ে বরং যথাযথভাবে আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ফি আছে, সেগুলোও না বাড়িয়ে আদায়ের ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় হবে রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে লিকেজটা যেন না হয়। আয়কর ও ভ্যাটের জন্য ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজস্ব পকেট থেকে যে অর্থ প্রদান করা হয় তার একটা বিরাট অঙ্ক সরকারের কোষাগারে যায় না; মধ্যভোগী, দালাল ও অন্যদের হাতে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।

বাজেটে আয়ের ব্যাপারে আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে জোর দিতে হবে। সঞ্চয় বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সরকারি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা/সুদ বাড়াতে হবে। শুনেছি, সরকার এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করছে। এটা ভালো উদ্যোগ। সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকে ডিপোজিটের ওপর বিদ্যমান ৩-৪ শতাংশ সুদ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। মূল্যস্ফীতির হার তার চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে সঞ্চয়ের টাকার যে আসল সেটাই কমে যাচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা ব্যয় এবং বাহুল্য ব্যয় কমালে এবং বেশি লাভের প্রত্যাশা না করলে আমানতের সুদ বাড়ানো যায়।

আর প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে সফট লোন নিতে হবে। প্রয়োজন হওয়ারই কথা। বাইরের সফট লোন এখন সহজলভ্য। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অনেক সংস্থা করোনার কারণে সফট লোন দেবে বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঋণের বোঝা বাড়বে বলে ঋণ নেব না—এই বিতর্কে না গিয়ে সফট লোন নেওয়াটা যুক্তিসংগত হবে। শুধু এর অর্থ যেন যথাসময় ও যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়।

এবারের বাজেটে ব্যয় রেশনালাইজ (যৌক্তিক) করতে হবে। প্রশাসনের অহেতুক ব্যয় কমিয়ে ফেলতে হবে। এডিপির ৫১৫টা প্রকল্পের জন্য দুই লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এত প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল না। যেগুলো না করলেই নয়, সেগুলো করা উচিত হতো। আমার মনে হয়, এডিপি থেকে কিছু অর্থ সরিয়ে করোনা-পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাখা যেত। অহেতুক অনেক প্রকল্প আছে, যেগুলো সময়মতো শেষ হয় না, মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সামাজিক জীবন বা সামষ্টিক অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব পড়ে না—এই ধরনের প্রকল্পগুলো কমিয়ে ফেলতে হবে। প্রকল্প সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে অতীতে লোকবলের অভাব, দক্ষতার অভাব এবং পরিবীক্ষণের অভাবের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন মোটেও ভালো হয়নি।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে কথা হচ্ছে। ঘাটতি ৫ শতাংশে রাখতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাটতি ৫ শতাংশের অধিক রাখলেও কোনো সমস্যা হবে না। ভারতেরও বিশাল বাজেট ঘাটতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তো আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। সেখানে সরকারের প্রচুর ঋণ আছে। সুতরাং ঘাটতি কম রাখা কোনো ক্রেডিট নয়।

বাজেটে অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তিগুলোর ওপর বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। কৃষি, বড় শিল্প, ছোট ও মাঝারি শিল্প—এসব খাতকে প্রণোদনা এবং নীতি সহায়তা দিয়ে উজ্জীবিত করতে হবে। এসব খাত উজ্জীবিত না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না। আমরা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা খাতের ওপর বেশি মনোযোগ দিই। কিন্তু ম্যানুফ্যাকচার শিল্পের ওপর বেশি নজর না দিলে বাংলাদেশের মতো দেশ বেশিদূর এগোতে পারবে না এবং সাধারণ মানুষের আয় সংস্থান এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে না। তথ্য-প্রযুক্তি আমাদের অনেক সম্ভাবনার জায়গা। তাই তথ্য-প্রযুক্তি সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে, একই সঙ্গে এর প্রসারও ঘটাতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে এবং ই-বিজনেসের প্রসারও ঘটেছে। এখন শহর ও গ্রাম সবখানে তথ্য-প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই একটি নিরবচ্ছিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং নীতি সহায়তা দিতে হবে।

দেশের চলমান উন্নয়নে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি জোর দিতে হবে। করোনা মহামারি আসার আগে দারিদ্র্য বিমোচনে আমরা ভালো অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী এতটা প্রান্তিক অবস্থানে থাকে যে স্বাস্থ্যগত সংকট বা অন্য যেকোনো বিপর্যয়ে চট করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। তাই সামাজিক নিরাপত্তা জালের আওতা বাড়াতে হবে এবং এ জন্য যথাযথ্য তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। দরিদ্র মানুষের তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেইস তৈরিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেছে। তথ্য সংগ্রহ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তথ্য প্রচারে বরাবরই ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বিরাট ভূমিকা রাখতে পাারে।

বাজেটে কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। এর একটা হলো আমাদের অ্যাগ্রিগেট ডিমান্ড (সামষ্টিক চাহিদা) বাড়ানো। সাধারণ মানুষের চাহিদা এখন অনেক কম। তারা খাদ্যদ্রব্য বা অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র ছাড়া কিছু ক্রয় করে না। তাই অ্যাগ্রিগেট ডিমান্ড বাড়াতে না পারলে বাজারে ব্যবসায়ীরা ইনসেনটিভ পাবেন না। চাহিদা বৃদ্ধির জন্য আয়ের উৎস, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলনটা থাকতে হবে। প্রতিযোগিত ও নিয়ন্ত্রণবিহীন দামের বিষয়েও নজর দিতে হবে। এগুলো ঠিক বাজেটের অংশ নয়, সরকারি সংস্থাগুলোকেই এসব কাজ করতে হয়। আমাদের দেশের বাজার একেবারে নিয়ন্ত্রণবিহীন। আর বাজার অর্থনীতি তো একেবারে নিয়ন্ত্রণবিহীন অর্থনীতি নয়।

পরিস্থিতি যেহেতু কঠিন, তাই এবার বাজেট বাস্তবায়নের কৌশলগুলো হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ। কৌশল হিসেবে অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে, অপচয় বন্ধ করতে হবে। এক টাকার জিনিস ১০ টাকায় কেনা হয়। একটা প্রকল্পকে দুই বছরের জায়গায় পাঁচ বছরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়। এ ছাড়া দুর্নীতি, অর্থপাচারের বিরুদ্ধেও যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকা দরকার। আমার মনে হয়, সময় এসেছে কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমরা কালো টাকা সাদা করেই যাচ্ছি; কিন্তু ইতিবাচক কিছু দেখা যাচ্ছে না। কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু এর উৎস কিংবা কালো টাকা অর্জনের প্রবণতা কমছে না। এ ব্যাপারে যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করা দরকার।

আরেকটি বিষয় হলো, করপোরেট সুশাসনের ওপর জোর দেওয়া। এ জন্য আমলাতান্ত্রিক দুর্বলতা দূর করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। ব্যাংক খাতকে কিভাবে আরো সুসংহত করা যায় সে পদক্ষেপ থাকতে হবে। আরেকটা পদক্ষেপ হওয়া উচিত উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ করা। সব কিছু ঢাকা এবং কয়েকটি বড় শহরে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না, স্থানীয় সরকারকে জড়িত করে অন্যান্য জেলা শহর, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসারিত করতে হবে। স্কুল-কলেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন—এসব কাজে স্থানীয় সরকারের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্থানীয় সরকার বা এর প্রতিনিধিরা অর্থ চুরি করতে পারেন—এসব পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মনিটরিংয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে, জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে হবে।

সর্বশেষ হলো, বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সর্বোপরি জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সরকার সব করবে এমনটা সম্ভব হয় না। সরকারের অনেক কাজ দেখেছি, বিশেষ করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, পল্লী উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা ঋণ প্রদান—এসব ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওর প্রচুর অবদান আছে। বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ এবং এদের চিহ্নিত করতে এনজিওদের যথেষ্ট তথ্যভাণ্ডার আছে। তাই আমি মনে করি, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও নেওয়া প্রয়োজন।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
অনুলিখন : আফছার আহমেদ
সূত্র: কালের কণ্ঠ