কিউরিয়াসে প্রদর্শনী (3)

দেশীয় মোটিফের নানা আয়োজন নিয়ে কিউরিয়াসে প্রদর্শনী

টপ স্টোরি ফ্যাশন লাইফ স্টাইল লিড স্টোরি

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক »

কাঁথা ফোঁড়ের ঐকতান আর উপরকণের অলংকৃত সুরিয়েরিজম নিয়ে কিউরিয়াসে শুরু হয়েছে ‘উইন্টার এক্সিভিশন’। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর ) রাজধানীর বনানীতে তাদের ফ্যাগশিপ আউটলেটে শুরু হয় এই প্রশর্দনী। চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিউ গ্যালারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে নজড়কাড়া আয়োজন। একপাশে পোশাক আর অন্যপাশে নারীদের প্রিয় গয়না। ভিন্নধনরনের এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, কিউরিয়াসের পরিচালক এম সাহাদাত হোসেন কিরণ, পরিচালক মৌ হোসেন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ হোসেন। মিট দ্য প্রেস পর্বটি সঞ্চালনা করেন এই প্রদর্শনীর কিউরেটর, ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা।

কিউরিয়াসে প্রদর্শনী (2)

ঋতু বৈচিত্রে বাংলাদেশ নিজস্বতায় আজও অন্যতম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই বাংলাদেশের শীতের আবহাওয়া, ঐতিহ্যগতভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের লহরীকাঁধা, কুমিল্লার খদ্দর শাল, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাদি সুতার বুরগী, সিলেটের খেশ এবং রাজশাহীর ভেড়ার পশমের কম্বল আজ ইতিহাস। এরই ধারবাহিকাতায় শীত প্রদর্শনীতে ২০২১ এর আয়োজনটি সময়োপযোগী, শীত পোশাকের কালেকশন সাজানো হয়েছে। যার মধ্যে আছে কাঁথাফোঁড়ের ঐকতান, নীলাভ ছন্দ, নান্দনিক জটিলতা ও আলোছায়া-যাদুমায়া শিরোনামে সংযোজিত হয়েছে গহনার প্রচলিত ও অপ্রচলিত উপকরণের সল্পসময়ের রূপবৈচিত্র।

প্রদর্শনীটির সংবাদ সম্মেলনে পুরোনোকে উজ্জীবন করে নতুন আয়োজনের ভাবনাকে তুলে ধরা হয়। এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বৈশ্বিক উষষ্ণতা বৃদ্ধি, জয়বায়ু পরিবর্তন আর তারই পরিপ্রেক্ষিত পোশাকশিল্প আর ফ্যাশন দুনিয়ার দায়িত্বশীলতা। যে হারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে ৫০ বছর পর শীতকাল বলে আর কিছু থাকবে কি না, তাই নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, যে দাদিকে শিশু দেখেনি, কিন্ত তাঁর বোনা সোয়েটার শরীরে চাপিয়ে বড় হয়েছে। এই যে একজন আরেক মানুষের স্নেহেরস্পর্শ গায়ে জড়িয়ে চলেছে পোশাকের আজকের কালেকশন সেটিকে উদ্ যাপন করার প্রয়াস মাত্র। আর যেগুলোকে আপনারা গয়নারূপে দেখছেন, এর উপকরণগুলোকে আমরা বীজ, মেটাল, কাপড়, কাঠরূপে পরে থাকতে দেখি। কিন্তু কখনো সেগুলোকে গয়না হিসেবে কল্পনা করি না। আমাদের এই গয়নার কালেকশন তাই অলক্ষ্যে পড়ে থাকা টুকরো বাস্তবতা আর স্বপ্নের সম্মিলন। পুরো প্রদর্শনীকে ভাগ করা হয়েছে দুই ভাবে। এক কাঁথা ফোঁড়ের ঐক্যতার এবং অন্যটি উপকরণের অলংকৃত সুরিয়েলিজম।

কাঁথা ফোড়ের ঐক্যতার

সময়ের অতীত থেকে গৌরবময় সৃজন ঐতিহ্য, আমাদের শিল্প সংস্কৃতি ও জীবধারাকে সব সময়েই সমৃদ্ধ করে এসেছে। নকশী কাথা বাঙালির মমতা জড়ানো কারুশৈলির চিরন্তন অনুভব। ‘কিউরিয়াস’ একারের শীতে নগরবাসীদের শৈত-উষ্নতার তার সৌন্দর্য আবিস্কার এর প্রচেষ্টায় উদ্যোগী হয়েছে। প্রেরণায় ছিলো নকশীকাথা ফোড়ের বর্ণিল সারফেস, সহযোগী হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে বাটনস্টিচের সুরেলা বর্ডার। লাইনিং এর প্রিন্ট ডিজাইনে শিল্পির নিপুন ড্রয়িং-এর স্বপ্ন তৈরি করেছে প্রকৃতির ছায়াময় বাগান। এবারে শীতের পেশাকে স্টাইলের মাধ্যমে আরো সংযোজিত হয়েছে সময়ের আধুনিক মাত্রা। আয়োজনটি প্রদর্শনির মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকদের সাথে পরিচিত হবে নান্দনিক ভঙ্গিতে। সময়ের হাত ধরে পথচলায়, সৃজন উদ্ভাবনের পরিত্রক্রমা চলমান রইবে আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় কিউরিয়াস এর আগামীর সুজন প্রচেষ্টা। প্রাকৃতিক ভাবে নির্ধারিত হয়েছে দীর্ঘ সময়ে পরিত্রক্রমায় পোশাকের সুবিশাল বৈচিত্র কিউরিয়াস শীতের আবহাওয়ায় দৃষ্টিনন্দন ব্যক্তিত্বের বিষয়টিতে উপলব্ধি করে তার যৌক্তিকতায় পুরুষ ও মহিলাদের দুটি আলাদা কালেকশন ও উপস্থাপিত করেছে। প্যাটার্নের ছন্দ ও কাথাফোড়ের প্রয়োগে ব্যতিত্রক্রমী সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত হয়েছে শীত ফ্যাশনের বর্ণিল রঙমালা।

কিউরিয়াসে প্রদর্শনী (1)

উপকরণের অলংকৃত সুরিয়েলিজম

অলংকার শিল্পে উদ্ভব হয়েছে ৫ হাজার বৎসরের অতীত সময় থেকে। হারিয়ে যাওয়া সবগুলো সভ্যতাতেই তার উদাহরণের নিদর্শন পৃথিবীর বিভিন্ন জাদুঘরে সংরতি রয়েছে। কিউরিয়াস তার গুনগ্রাহী পৃষ্ঠপোষকদের জন্য গহনার নতুন ভাবনা রচনা করেছে যেখানে উপস্থাপিত হয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্পর্কিত সময় ও ভাবনার বৈচিত্র অভিনবত্ব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চলমানতায় প্রয়োজন ও স্বপ্নবিলাসের এক দ্বৈত সংগীত সবসময়েই অনুরচিত হয়ে চলেছে। কিউরিয়াসের ডিজাইন স্টুডিও অভিজ্ঞতা, নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার অনুভব থেকে প্রদর্শনীর গহনার ভাবরূপ সৃজনে প্রয়াসী হয়েছে।