স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম

অনলাইনে পছন্দের গরু কেনা যাবে আজ থেকে

জাতীয় টপ স্টোরি লিড স্টোরি

নিজস্ব প্রতিবেদক »

এক লাখ পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ডিজিটাল কোরবানি হাটের যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন এলাকায় এবারের ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন। সহযোগিতায় রয়েছে বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, এটুআই-একশপ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার কারণে এবারও অনলাইনে পশু বিক্রিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।সারাদেশের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এবার এক লাখ পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবছর এই হাটে ২৭ হাজার পশু বিক্রি হয়েছিল।

আজ থেকে এই ডিজিটাল হাটে কেনাকাটা করা যাবে, চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। গরু ডেলিভারি সেবার বিস্তৃতি হবে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা যে যে এলাকায় ডেলিভারি দিতে পারবেন তার ওপর। আর কসাই সেবার বুকিং চালু থাকবে ১২ জুলাই পর্যন্ত। এই সেবার পরিসীমা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কোরবানির ডিজিটাল হাটের লিংক : www.digitalhaat.net

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি সেবাগুলো দিনে দিনে আধুনিক হচ্ছে এবং সেটির সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা পেতে মানুষ বড় ধরনের একটা সহযোগিতা পাবে অনলাইনে পশু ক্রয়ের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিমুখী নীতির কারণে এবং প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টরকে যুক্ত করে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দেশ উন্নয়নের বিভিন্ন ধারায় অগ্রগতি লাভ করেছে। প্রযুক্তির সুবিধায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দেয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

এ সময় মন্ত্রী এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা দামের একটি গরু ক্রয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার বলেন, আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা কোরবানির গরু বিক্রি পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যে প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে পারে তার একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই ডিজিটাল গরু হাট। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ক্রমশ এগিয়ে চলেছি। বাংলাদেশের এই উন্নতি আজ অনুকরণীয়।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করীম বলেন, দেশে ৪১ কোটি গবাদিপশু রয়েছে এবং এক কোটি ১৯ লাখ পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। বিগত বছরের ন্যায় এবারো দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক কসাইখানা তৈরির উদ্যোগ নেবে সরকার।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। এর সঠিক বাস্তবায়নের জন্য আমরা সরকারি এবং বেসরকারি পক্ষগুলোকে যুক্ত করেছি। ক্রেতা ও বিক্রেতার আস্থা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও একশপের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টাও অন্তর্ভুক্ত করছি।

তিনি এবার এক লাখ মানুষ অনলাইনে গরু ক্রয় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ডিএনসিসির ব্যবস্থাপনায় এক হাজার গরু স্লটারিং সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ই-কমার্স দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যেহেতু সরকারি-বেসরকারি সক্ষমতা ও দক্ষতা একসঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। সেহেতু এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য নিরাপদ পদ্ধতি মনে হচ্ছে। এই সেবার সঙ্গে যত বেশি মানুষকে যুক্ত করা যাবে ততই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল সেবার কারণে দেশ বদলে যাচ্ছে। ১০ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং করছে। সারাদেশে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলায় কোরবানি পশু বিক্রির প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। সব প্লাটফর্মকে একই সূত্রে গেঁথে মানুষকে জানিয়ে দিতে হবে। তিনি ডিজিটাল কোরবানি হাটে অভিযোগ আসলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী একটি গরু ক্রয় করেন। এটিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করার ঘোষণা দেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরণ বদলে যাচ্ছে, এটা ইতিবাচক দিক। করোনার এই দুঃসময়ে ঘরে বসে কোরবানির পশুরহাটে না গিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করা জনসাধারণের জন্য একটি আশীর্বাদ। জনগণকে এর সুফলের কথা জানিয়ে দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে মানুষের অনলাইনে কেনাকাটার ব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে। গতবারের সফলতার কারণে এবার ডিজিটাল হাট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতি-পলিসি তৈরি করা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি এর প্রতি ক্রেতাদেরও তুলনামূলক বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি ও কৌশলগত সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ই-কমার্স সেক্টরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্ক্রো সেবা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ডব্লিওটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, এবারের ডিজিটাল হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতার নিরাপত্তার স্বার্থে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে এটিকে আরও সময়োপযোগী করা হবে বলে জানান তিনি।

ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, গতবার ৪৫টি মেম্বারসহ মোট ৬০ জন মার্চেন্ট এবং এবার ই-ক্যাব ও ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন মিলে শতাধিক মার্চেন্ট। গত বছর দেশব্যাপী ২৭ হাজার গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার তা আরও অনেক বাড়বে বলে আমরা মনে করি।

একশপের টিম লিড রেজওয়ানুল হক জামি বলেন, ডিজিটাল হাটে স্ক্রো সেবা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানে সাময়িক স্ক্রো সেবা বিক্রেতা গ্রহণ করবে কি-না এটা তার ইচ্ছার ওপর রাখা হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে স্ক্রোযুক্ত পশু ক্রয় করতে পারবেন অথবা সরাসরি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করবে। এটা উভয়ের জন্য নিরাপদ। ক্রেতাদের সঠিক পশু দেয়া যেমন নিশ্চিত করা হবে তেমনি বিক্রেতার পাওনাও নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্লটারিং সেবার মাধ্যমে ঘরে ঘরে মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে পাঠানো হবে। বর্তমানে আমাদের ৫০০ স্লটারিং সেবা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আমরা এক হাজার গরু জবাই করে বাসায় ডেলিভারি দিতে পারব। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ঢাকায় ৫০ হাজার এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এক লাখ পশু বিক্রি করা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। এতে অন্যান্য সহযোগী হিসেবে রয়েছে দারাজ, মাস্টার কার্ডসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।